Thursday, December 6, 2012
ধাক্কা দাও বলে চিৎকার .....<>
এখন বর্ষা কাল, অহরহই বৃষ্টি হয় টাইমটেবল ছাড়া। তখন অনেক রাত, বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে। অনেকক্ষন বৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা ঘাটে প্রচুর পানি জমে আছে। এর ভিতর আমাদের পলাশ ভাই চিৎকার করে কেদে কেদে বলছে, কে আছো ভাই? একটু ধাক্কা দাও।
তনু তার স্বামীকে স্বপনকে ডেকে তুলে বললো- “আমার মনে হয় তোমার যাওয়া উচিত।”
স্বপন- কিন্তু বাইরে অনেক বৃষ্টি। রাস্তায় অনেক কাদা।
তনু- তোমার
গত বছরের কাহিনী মনে নাই?
স্বপন- আছে মনে আছে। কিন্তু এই ব্যাটারগলা শুনে ত মনে হচ্ছে পুরা মাতাল।
তনু- তোমার গলা শুনে সেদিন কি অন্যরা মাতাল ভাবে নি?
গত বছর তনুর বাচ্চা হবে। রাতের বেলা হাসপাতালে নিয়ে যাবে। সেদিনও এমন বৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তাঘাট ভেসে যাচ্ছিল। তাদের গাড়িটা আটকা পড়ে গিয়েছিল কাদায়। অনেকক্ষন ঠেলে ঢুলেওবব গাড়িটা গর্ত থেকে বের করতে পারছিল না। এদিকে বউয়ের বাচ্চা প্রসবের সময়হয়ে যাচ্ছে। বার বার বব ধাক্কা মারছিল। কিন্তু গাড়িটা বের করে আনতে পারছিল না। একসময় হতাশায় সে চিৎকার করে কাদা শুরু করেছিল । ধাক্কা দাও। কেউ একজন এসে ধাক্কা দাও। আশেপাশের বাসা থেকে দুইজন সহৃদয় মানুষ বের হয়ে এসেছিল। নিজেরা ভিজে, কাদায় মাখামাখি হয়ে গাড়িটা বের করে দিয়েছিল ধাক্কা মেরে। আর সেদিন রাতেইতাদের ফুটফুটে একটা মেয়ে হয়েছিল।
আজকে, বছরখানেক পর, আরেক বৃষ্টির দিনে এক মাতাল চিৎকার করে বলছে, ধাক্কা দাও।আমাকে ধাক্কা দাও।
স্বপন বের হয়ে আসল। রাস্তার পাশের লাইটগুলাও নিভে আছে কেন জানি। বেশ অন্ধকার। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। শুধু চিৎকার শোনা যাচ্ছে, ধাক্কা দাও।
স্বপন বলল, ভাই আপনি কই?
পলাশ- এদিকে আসেন।
স্বপন সামনে এগিয়ে যায়।
পলাশ- বাগানের ভিতর আসেন।
স্বপন বাগানে ঢুকে পড়ে। ভাই, আপনাকে দেখছি না তো।
পলাশ- ভাই, টবগুলার পাশে আসেন।
স্বপন টবের পাশে এসে দাঁড়ায়।
পলাশ- ভাই ,আপনার মত মানুষ হয় না। আসেন, একটু ধাক্কা দেন তো। অনেকক্ষন দোলনায় বসে আছি। এত ডাকছি। কেউ ধাক্কা দিতে আসে না ।
Posted By : Dhiman Sarker Bappy